মায়াং এ আর প্রকৃত তন্ত্র শেখার কিছু নাই ( আমার অভিজ্ঞতায় mayong এর ইতিকথা )

Jyotishraj Suvrajit Singha
0

মায়াং এ আর প্রকৃত তন্ত্র শেখার কিছু নাই ( আমার অভিজ্ঞতায় mayong এর ইতিকথা )

কদিন ধরেই গ্রুপ এ ময়াং যাবো , মায়াং গেছি , অমুক তমুক নিয়ে অনেক জল্পনা চলছে , দেখলাম নাকি আবার এজেন্ট ও সৃষ্টি হয়েছে , তবে আসলে যারা কখনো যান নি বা জানেন না তাদের বলছি , মায়াং গেলেই আপনারা প্রকৃত তান্ত্রিক বা সাধক হয়ে যাবেন না উল্টে আপনারা কাফের হয়ে যেতে পারেন নিজের অজান্তেই , হ্যা সত্যি বলছি ।

বিষয় টা ভালো করে বুঝিয়ে বলছি শুনুন
মায়াং এর সব তন্ত্র এর মন্ত্র গুলি হলো ওঝার বিদ্যা বা মূলত আমরা আগম তন্ত্র তে যাকে shatkarma বলি সেই ধরনের বিদ্যা , মায়াং এর মন্ত্র গুলি এর মধ্যে কোনো প্রকৃত সাধন বিদ্যা নেই , তবু যেহেতু এই সমস্ত মন্ত্র দ্বারা বিভিন্ন সাময়িক ক্রিয়া করা যায় যার ফলে যুগে যুগে মানুষ মন্ত্র শিখতে মায়ংগ e যেত।

বর্তমানে মায়াং e আর ভালো কিছু শেখার নাই এর কারণ গুলি হলো

1. কারণ মায়াং এর মূল পুরনো যে সব মন্ত্র গুলি ছিল যেমন - শিব লিপি মন্ত্র , ভুত লিপি মন্ত্র , করোখ বা কুরখ জাজাতির মন্ত্র , বাইদেহি বা বিধেহি মন্ত্র , হেমলিপি মন্ত্র
এই সমস্ত মন্ত্র আর দেওয়ায় লোক বেচে নাই এসমস্ত উপজাতি গুলিই বিলুপ্তির পথে ।
করখ উপজাতির মন্ত্র এতটাই স্ট্রং ছিল যে , কোনো পরিবারে ক্ষতি করা হলে 5 পুরুষ অবধি তার ফল চলত ।
হেমলিপী আর ভুত লিপি মন্ত্র খুব সহজ হতো করা কিন্তু এগুলি ভয়ানক ছিল একটু ভুল হলেও নরকের দর্শন must।
একটি হেমলীপি মন্ত্র এর বিধি সমন্ধে বলছি শুনলেই বুঝতে পারবেন কি বিষাক্ত জিনিস ছিল আগে mayong
একটি আকর এর বীজ নিয়ে , 141 বার একটি মন্ত্রে abhimantrit করতে হবে , এরপর আমাবস্যা তে একটি বিড়াল কে মেরে , তার মুখে ওই আকল বীজ ঢুকিয়ে মাটিতে পূতে রাখতে হবে ও 11 দিন 141 বার জপ করার পর , ওই বীজ আবার তুলে এনে মুখে রাখলে সেই সাধক বিড়াল রূপ ধারণ করে ঘুরতে পারবে , মুখ থেকে সেটি ফেললে আবার আগের রূপে ফিরে আসবে ।




আমার দাদুর আমলে যখন গিয়েছিলাম দিদিমার সাথে তখন লাস্ট কুরোখ উপজাতির মন্ত্র প্রয়োগ কaরি দেখেছিলাম , তারপর বড় হয়েও একাধিক বার গেছি পুরনো রেফারেন্স যে ইউজ করবো তার সুযোগ ও পাই নি কারণ ততদিনে সে সব ব্যাক্তি দুনিয়া থেকে লোপাট । গুরু কৃপায় আমার দিদার ডাইরি তে কিছু এই ধরেনের মন্ত্র ছিল তাই আমি জানি নাহলে অনেকে তো জানই না এই ধরনের মন্ত্র ও হয় । যদি কারোর বাপ দাদা গিয়ে খাতা ভরে মন্ত্রে নিয়ে এসে থাকে তবে খুজে দেখলে পেতে পারেন এখন গেলে শুধু ওখানে যে সংগ্রহশালা টা আছে তাতে ছবিতেই মন্ত্র গুলো দেখতে পাবেন নিয়ম তো দূরের কথা ।
2. তাছাড়া ময়োঙ হলো উপজাতি সম্প্রদায়ের বাসস্থান, এর বুনিয়াদি নিয়ম হলো এরা নিজেদের ভাই বা উপজাতীয় দের মধ্যে তো বিনি পয়সায় বিদ্যা বিলিয়ে দিতে রাজি থাকে কিন্তু বাইরের কেউ গেলে ব কোনো সাধক ব যে কেউ কে ভালো কিছুই দেওয়া হয় না খুব সহজে ।
3. যদি দৈবাৎ আপনার পূর্ব পুরুষ সূত্রে যাতায়াত থাকে , তবে আপনি সেই ব্যক্তিদের পরিচয় দিলে কিছু দারুন মন্ত্র পাবেন সহজে নয়তো যেগুলো যেগুলো পাবেন টা খুব সাধারণ মন্ত্র , এটাই সত্যি যাদের doubt থাকবে গিয়ে যাচাই করে নেবেন।
4. ওখানের এমন অনেকেই আছেন যারা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিজের পূর্ব পুরুষের ওই মন্ত্রের খাতাপত্র টুকুই যা রেখেছেন (অনেকে তাও রাখে নি) কিন্তু কিছু নিজে থেকে শেখেন নি, অর্থের তাগিদে মায়াং ছেড়ে কেউ গোয়াহাটি কেউ হরিয়ানা কেউ আবার বাংলাদেশে পর্যন্ত কিছু সাধারণ কাজে নিযুক্ত হয়ে আছেন । কখনো ভেবে দেখেছেন যাদের থেকে শিখবেন ভাবছেন তাদের নিজের ছেলে মেয়ে রায় না শিখে অন্য কাজে কেনো ? এবিষয় আরো বিস্তারে বলব কোনো একদিন ।আসলে এগুলি আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার থেকে বলছি আমার কাছেই জল জ্যান্ত ৩/৪ টে উদাহরণ আছে ।
5. আরেকটা সবথেকে গুরুতবপূর্ণ বিষয় যেটা আমি ব্যাক্তগতভাবে দেখেছি টা হলো যে ওখানকার যারা পূর্ববর্তী তান্ত্রিক ওঝা রা ছিলেন তারা খুব বেশি শিক্ষিত ছিলেন না তবে তাদের মুখস্ত বিদ্যা ছিল খুব দারুন তাই তারা নিজেরা তো খুব ভালো মন্ত্র আওড়াতে পারতেন কিন্তু অনেকেরই পুরনো খাতা বা কাগজে দেখলে অজস্র বানান ভুল , যুক্তাক্ষর ঠিক লেখা নাই , অনেক ক্ষেত্রে লাইন মিলছে না এর কারণ তারা লেখা পড়ায় ভালো ছিলেন না , (কোনো ব্যক্তি বা উপজাতি কে অসম্মান করার উদ্দেশ্য নিয়ে এটা বলা হয় নি )
আর জানিনা কেনো হয়ত অনেকই মন্ত্রের অর্থ না বুঝে শুধু আওড়াতে থাকে বলে বা অন্য কারণ ও হতে পারে অনেক মন্ত্র আমি নিজেই দেখে বুঝতে পারতাম ঠিক থাক নেই তবে সেটাই অনেক ইউজ করে চলেছে , এমন কি আমার মা দিদিমা ওর same আওড়ে চলেছে ,
আমার দিদার পুরনো একখান খাতা যেটা নাকি তার ওস্তাদ (আমরা যাকে গুরু বলি মায়াং e অনেকে ওস্তাদ ও বলে) এর দেওয়া ছিল তাতে ভুলের মেলা ছিল , অথচ ছোট থেকে সেই মন্ত্র তেই ঝার ফুক সয়ে সয়ে বড় হলাম , ভাগ্য ভালো এই যে সব মন্ত্রের প্রায় ৩/৪ তে করে ইউজ করত , যেমন শরীর বাঁধলে ৩/৪ তে মন্ত্র দিয়ে বাঁধতো , পেট কামড় ঝরালে নুন পড়া তেল পড়া জল পড়া অলরেডী ৩ তে হয়ে গেলো এইভাবে করতে ১/২ টা মন্ত্র ভুল থাকলেও কাজ মোটামুটি হয়ে যেত বলে কেউ আর ভেবেই দেখি নাই , আসলে নিজের বাড়ির উদাহরণ এই জন্যেই দিলাম যাতে অন্য কারুর বাজে না লাগে তবে সবারই এই issue ache মায়াং মন্ত্রের এটাই সব থেকে বড় porblem

একটি উদাহরণ দিচ্ছি বোঝার জন্য -
ভুত ছাড়ানোর মন্ত্রের শুরুতে মন্ত্রটা এরকম -
" ব্রহ্মার অনলে জুরিলাম বান বড় বড় দেব দেবী না সয়ে টান"
এটা এক ওস্তাদের ডাইরি তে লেখা আছে -
" ব্রহ্মার আড়ালে যুড়িলাম বান বড় বড় দেব দেবী না শয়তান "
একটু বুঝে দেখলেই বুঝতে পারবেন , শব্দ বদলানোর ফলে পুরো মানে বদলে যাচ্ছে , আর যদি কেউ না বুঝে করে তাহলে , মন্ত্র খাটবে না । এরকম অনেক ভুল আমি দেখেছি , অবশ্য এই রকম ভুল বিভিন্ন লেখকের বই তিও থাকে বিশেষত শাবর মন্ত্রের বই তে ।




Mayong এ আপনারা কি পাবেন


1. গাদা গুচ্ছের বান চালান মন্ত্র পাবেন বিভিন্ন ক্রিয়ার জন্য
2. ততগুলুই আবার বান ও চালান কাটার মন্ত্র ও পাবেন
3. পেটে ব্যাথা থেকে শুরু করে নখে ব্যথার সব ঝার ফুক মন্ত্র আছে এখানে যেগুলো সত্যি খুব ভালো কাজে দেই।
4. বশীকরণ , বিচ্ছেদের , ব্যাধিকরন অনেক কুফরী মন্ত্র আছে যেগুলি সহজে করা যায়
5. আর আছে বিভিন্ন গাছ গাছরার তন্ত্র প্রয়োগ আর বিভিন্ন পশু পাখি দ্বারা করা বিভিন্ন বিদ্যা সমুহ
6. গ্রামের দিকে যারা থাকেন তাদের ভুত প্রেত জ্বীন ছাড়ানোর দরকার পড়ে এসবেরও অনেক মন্ত্র পাবেন ।
7. সাপ কাটা পশু পাখির বিষ ঝারা বা ওদের নিয়ন্ত্রনে রাকার মন্ত্র পাবেন ।
8. হাত চালান , বাটি চালান থেকে শুরু করে কুলা চালান নরা চালান দ্বারা প্রশ্নের উত্তর জানা , অনেক ক্ষেত্রেই ভুল উত্তর দেই বহু বার করে দেখেছি , এর থেকে জ্যোতিষ, হস্তরেখা , ট্যারো কার্ড ভালো, আমার মতে ।

Mayong এ আপনারা কি পাবেন না

মায়ঙ্ এর যাকে তন্ত্র বলে সেটা প্রকৃত তন্ত্র নয় আসলে কালো যাদু , ওখানে দৈব সাধনা কম হয় আর তামসিক সাধনা বেশি | যেমন ধরুন -
1.ওখানে দক্ষিণা কালী বা বামা কালী সাধনা এর স্থানে হয় মাদার কালী , প্রেত কালী , চিতা কালী ( এগুলি কোনোটাই প্রকৃত কালী নন , কিছু অপশক্তি ) । আপনারা দেখবেন ইউটিউব এ কালী চালান বলে অনেক ভিডিও পাবেন আদিবাসী তন্ত্র , ময়ঙ্ তন্ত্রে এই ভাষা টা খুব চলে , এবার নিজেই ভেবে দেখুন কেউ কি মা কালী কে চালান দিতে পারবে এমন কোনো দেবতা পেইদা হয়নি মানুষ তো দূরের কথা ওগুলো অপশক্তি ।
2. রাঙাহারি সাধনা , হনুমানের মাথা সাধনা , ভুত শংকর সাধনা এসব সাধনা কোনোটাই দৈব নয় ।
3. আমার মনে পড়ে তন্ত্রে আসার আগে মায়ের একটি আলাদা ডাইরি ছিল দিদার দেওয়া যাতে লেখা ছিল কৃষ্ণ সাধনা , নাকি 11 দিন এ কৃষ্ণ আসবে বাঁশি বাজাতে বাজাতে আর আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাবে , মা কখনো ওই খাতা টা ধরতে দিত না যাতে এসব সাধনা আছে , পরে শাস্ত্র পরে ও তন্ত্রে প্রবেশ করে বুঝলাম ওই আদিবাসী তন্ত্র তে যে কৃষ্ণের কথা বলা আছে সেটা আসলে প্রকৃত কৃষ্ণ নয় একটা bramha doitti সাধনা যে বাঁশি বাজিয়ে আসে আর উত্তর দিয়ে যায় । নয়তো আসল পরমাত্মা কৃষ্ণ কে দেখা পেতে 11 জন্ম ও কম পড়বে ১১ দিন তো দূরের কথা।
4. বহু স্থানে পরী সাধনার নাম করে প্রেত সাধনা দেয়া আছে , যেহেতু অনেকেই মন্ত্র এর অর্থ না বুঝে আওড়ায় তাই বোঝেও না এটা আসল মন্ত্র টা কিসের ।
5. বেশির ভাগ মন্ত্রের শেষে " শিবের জটা ছিঁড়ে পরে " বা
" মা কালী কার্তিক গণেশের মাথা খায় " এইসব দোহাই বা আরো অনেক নোংরা দোহাই দেওয়া হয় যার ফলে , কাজ তো খুব সহজে হয়ে যায় কিন্তু এগুলো আসলে কুফরী মন্ত্র এগুলি করলে সোজা জাহান্নাম এর আগুন তাদের জন্য অপেক্ষা করবে ।
একটা কথা না বলে পারলাম না আমি সর্বদায় একটা কথা বলি যে সাধনা এমন করুন যা মুক্তি মার্গিয় নাকি এমন যা নরকগামি , এই কারণেই উপরে লিখেছিলাম যে সাধক হতে গিয়ে আপনি হয়তো কাফের হয়ে যাবেন ও নরকগমি হবেন
যারা জানেন না তাদের বলে রাখি কামাখ্যা ও mayong তন্ত্রে একটা কথা প্রচলিত আছে যে -
" ওঝার মৃত্যু ভূতের হাতে " কথাটার ভাবার্থ হলো এই যে -
"যে ব্যাক্তি সারাজীবন শুধু ভুত প্রেত নিয়ে তামসিক সাধনা করবে সে একদিন _________ " ( শুনলে যদি কারুর গায়ে লাগে তাই আর বললাম না )

Mayong বিদ্যা শেখার সবথেকে ভালো নিয়ম হল এই যে -

1. আগে ভালো গুরু ধরে কোনো দৈব মন্ত্র গ্রহণ করুন , যে কোনো মন্ত্র যা দিকে আপনার মন টানে সেই দেবীর নিন
2. এরপর বারংবার জপ করে নিজেকে তার চরণে সোপে দিন বা তার দাস বানিয়ে ফেলুন , এতে করে নরকগামী হতে হবে না , তবে সাবধান এর পরেও কথায় কথায় অভিচার kriya করলে মা ছেড়ে কথা বলবে না ।
3. এরপর mayong যান , যদি মন টানে তো , প্রকৃত ভক্তি সাধন ভজন শিখলে আর মন টানবে না ।
4. আর গেলে তখন মেইনলি শান্তি কর্ম , পুষ্টি কর্ম আর বশীকরণ শিখুন , খারাপ কিছু না শিখলে খারাপ করার বাতিক থাকবে না
5. তাছাড়া আপনি নিজের রক্ষা করতে আর অন্যের ক্রিয়া তাকে ফিরত পাঠাতে পারলে আর ক্ষতি শিখে কি লাভ ?? চায়ে যে কারণেই করুন ঈশ্বর কাউকেই অন্যের ক্ষতির অধিকার den নাই ।
(অনেক তন্ত্রের গ্রুপ te আবাল চাবাল বিষয় অপ্রভ করা হলেও আমার আর্টিকেল করা হয় না , কেনো সেটাও ভালই বুঝি ,কিন্তু নিজের গ্রুপ নয় বলে কিছু বলি না ,
তাই এটি ভালো লাগলে আপনারা আর তন্ত্রের অন্য যে সব গ্রুপে আছেন সেখানে কপি না করে শেয়ার করে দিন, অনেকের ভুল ভেঙে যাবে ও সচেতনতা বাড়বে )
কারোর ধ্যান ধরনা কে আঘাত করার জন্য আর্টিকেল টি লেখা হয় নাই , কেউ যদি শুধু ময়ঙ্গ বিদ্যা দ্বারাই কাজ করে চলেছেন তিনি দয়া করে পার্সোনালি নেবেন না ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)