একটি গুরত্বপূর্ন বিষয়ে আজ আলোচনা করব , পারলে মনোযোগ দিয়ে পরবেন ।
এর আগে লেখা mayong এর আর্টিকেল টি লাস্ট অংশ টি পড়ে বেশ কয়েকজন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন যে -
1.আমার যদি কেউ ক্ষতি করে তাহলে আমি তার ক্ষতি করব না কেনো ?
দেখুন আমি যেটা বলতে চেয়েছিলাম সেটা হলো এই যে মন্ত্রতন্ত্র ব্যাবহার করে সামান্য বা কিছু
জাগতিক কারণে বা অহংকার এর বশে যদি কেউ কারুর ক্ষতি করে তবে সেটা সবথেকে বেশি অনুচিত , এবং অন্যের প্ররোচনা তেও কাউকে ক্ষতি করা উচিত নয় ( এই প্ররোচনা টা বলার অর্থ এই যে, অনেক সময় এমন হয় যে আপনাকে কে ক্ষতি করছে আপনি নিজেও টা জানেন না কোনো এক রেলটিভ বা বন্ধু বলল যে অমুক তোর ক্ষতি করছে তন্ত্র করে আর যেহেতু সে আপনাকে পছন্দ করে না বা সামাজিক ভাবে শত্র তাই আপনি ও ভেবে নিতে পারেন ওই করিয়েছে এই ভাবে প্ররোচনা তেই অনেকে ক্ষতি করে থাকে )
আর প্ররোচনা থেকে শুধু আপনাদের নয় তান্ত্রিক দের ও সতর্ক থাকতে হয় অনেক সময় এমন হয় কোনো ক্লাইন্ট এল সে কেঁদে কেটে একাকার করে বলল অমুক ব্যাক্তি আমার অমুক ক্ষতি করেছে তমুক করছে , এবং নিজে কি কান্ড কারখানা করেছে সেটা চেপে গেলো , এবং ekhtre যদি সঠিক ভাবে যাচাই না করে তার বলা ব্যক্তির নামে কেউ তান্ত্রিক ক্ষতিকর ক্রিয়া করে দেয় তবে তাকেও পাপের ভাগী হতে হয় । এটাই সত্যি মানুন বা না মানুন ।কারণ এটাও হিসাব মতন প্ররোচনা তে পরে করাই হলো তাই না ,
বিনা অপরাধে বিনা কারণে বা সামান্য কিছু কারণে অহঙ্কারের বশবর্তী হয়ে যদি কেউ আপনার ক্ষতি করে তাহলে সে আসলে নিজের ই ক্ষতি করছে , এটা আমি বলি নাই যুগে যুগে সাধু সন্ত রা বলে এসেছেন । যারা প্রকৃত সাধক বা যারা মা কে বা প্রভু কে প্রকৃত ভালোবাসেন তারা তো কোনো এসব ক্রিয়া কর্মের ধরে কাছেও যাবেন না । আর এটা বলার প্রয়োজন নাই আপনারা অনেক সাধকের জীবনী তেই পরে দেখেছেন এবিষয় ।
এবার আসি মূল বিষয়ে -
কেউ যদি আপনার ক্ষতি করে তাহলে আপনি ক্ষতি করবেন কিনা , আমার শিক্ষা গুরু বলতেন ----
"যতক্ষণ না মহাবিপদ কোনো বড় দুর্ঘটনা বা মৃত্যু এর মতন সমস্যা না হয় ততক্ষণ বান বিদ্যা , ব্যধিকরণ ইত্যাদি করবে না । মারণ কোনো মতেই করবে না , যার আয়ু দেবার ক্ষমতা নাই তার মৃত্যু দেওয়ার ও অধিকার নাই ।যদি কখনোমহবিপদ বা কেউ উক্ত মারণ আদি ক্রিয়া তোমার জন্যে করে তবে তা প্রত্যাঙ্গীরা সহিত ফিরিয়ে দিও এতে কোনো পাপ লাগবে না । যার ক্রিয়া তার কাছেই ফিরে যাবে । এতে নিজে থাকে ক্ষতি করাও হবে না আবার নিজেও রেহাই পাবে । প্রত্যাঙিরা করিয়া ফিরত পাঠালে সেই সাধকের সেই করিয়া বিকল হয়ে যায় । তন্ত্রে মারণ ব্যাধিকরন দেওয়া আছে কারণ আগের প্রাচীন কালের সাধক তান্ত্রিক রা যেমন মারতে পারতেন তেমন মৃত সঞ্জীবনী সিদ্ধি ছিল প্রায় মৃতবা মরাকেও বাঁচিয়ে দিতে পারতেন তাই ।"
এবার আপনারা বলবেন যে বাপু আমরা তো এত শত জানি না আমরা কি করব সেটা বলো
সেটা বলার আগে একটা কথা বলা দরকার যে তন্ত্র ক্রিয়া দ্বারা কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় -
বিষ্ণু আপামার্জন স্তোত্র এর পূর্ব পাঠিকা অংশ টা ভালো করে ভাবার্থ করলে এরূপ দাড়ায় যে
মহাদেব পার্বতী কে বলছেন -- " হে দেবী যে ব্যক্তি পূজা ভক্তি ব্রত উপবাস ইত্যাদি দ্বারা ভগবান বিষ্ণু কে সন্তুষ্ট করে নেন তার কোনো রোগ ভয় , বিষ ভয় , তন্ত্র আভিচার ভয় থাকে না ।"
এর মানে এই নয় যে শুধু বিষ্ণু কে সন্তুষ্ট করলে তবেই হবে আপনি নিজ নিজ ইষ্ট দেব দেবী বা গুরু কেও উক্ত উপায় সন্তুষ্ট করতে পারলে আর ভয় পাওয়ার দরকার নেই ' কৃপা বলে ' সব অসম্ভব সম্ভব হয়ে যায় মানুন বা না মানুন এটাই সত্যি ।
তাহলে কি বোঝা গেলো
1. গুরু ও ইষ্ট এর উপর জার ভক্তি নাই সে তন্ত্র ক্রিয়া দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়
2. যে ভক্তি করে কিন্তু তার গুরু ও ইষ্ট এর শক্তির উপর আস্থা নাই সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অভিচার দ্বারা
3. যার নিজের শক্তির উপর কোনো আস্থা নাই বা নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করতে থাকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অভিচার দ্বারা
4. যার মনে অন্যের ক্ষতির বাসনা বারংবার চলে আসে বা অন্যের সুখে হিংসা হতে থাকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অভিচার দ্বারা
5. যে অন্যের বিনা কারণে জন্য কোনো তন্ত্র দ্বারা ক্ষতি করে বা করায় অথচ নিজে সততা দেখায়
6. যে ব্যাক্তি তন্ত্র মন্ত্র এর অপব্যবহার করে অন্যের ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় অভিচার দ্বারা
এই সকল ব্যাক্তি রাই সাধারণত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় অভিচার দ্বারা ।
এবার অনেকেই বলবেন যে - Horoscope অনুযায়ী গ্রহ প্রতিকূল ভাবে থাকেলও তন্ত্রের দ্বারা ক্ষতি হবে এমন থাকলে সেখতেরে বিনা কারণে ক্ষতি হচ্ছে তাই না , কিন্তু এই ক্ষেত্রেও আপনাকে মনে রাখতে হবে যাকে আমরা Horoscope বলি সেটা আসলে পূর্ব জন্মের কর্মের লেখা জখা তাই এই জন্মে না হলেও আগের জন্মে কোনো পাপের ফলে আমরা উক্ত দোষ বা গ্রহ যোগ নিয়ে এসেছি তাই একে অন্যের উপর ক্রিয়া করে বদলানো যাবে না , ভালো কর্মের দ্বারাই বদলাতে হবে , তাই গ্রহগত কারণে তন্ত্র অভিচর ক্রিয়া দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হলেই ফট করে অন্যের ক্ষতি করতে যাবেন না ।
অতএব যা আমাদের বুঝে নিয়ে চলতে হবে তা হল
1. ক্ষতি করার বাসনা নিয়ে তন্ত্র বা সাধনা শেখা উচিত নয়
2. আগে থেকে ক্রিয়া জানা থাকলেও অন্যের কথায় বা প্ররোচনায় ক্ষতি করা উচিত নয়
3. কোনো ক্লায়েন্ট এসে কেঁদে কেটে বললেও অন্যের ক্ষতির করার আগে যাচাই করতে হবে সত্য মিথ্যা কি
4. মারণ বা এমন কোনো ক্ষতি যা অন্যের জীবন কে নষ্ট করে দিতে পারে ত টাকার বিনিময় বা সামান্য কোনো সার্থে করা উচিত নয় ।
5. যতক্ষণ না আপন প্রাণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যার দ্বারা জীবন নষ্ট হয় এমন অন্যের মারণ বা ভয়ানক ব্যাধিকরণ করা উচিত নয়
6. ইনফ্যাক্ট মারণ কখনোই করতে নেই কারণ আগেও বলেছি তন্ত্রে দেওয়া আছে কারণ আগের প্রাচীন কালের সাধক তান্ত্রিক রা যেমন মারতে পারতো তেমন মৃত সঞ্জীবনী সিদ্ধি ছিল প্রায় মৃতবা মরাকেও বাঁচিয়ে দিতে পারতো তাই
অবশেষে বলি এটা আমার গুরু পরম্পরা ধারণা অনুযায়ী বললাম অনেক অঘোর /কাপালিক পরম্পরা এর সঙ্গে এই ধারণা নাই মিলতে পারে , ইনফ্যাক্ট আমি নিজেই জানি মিলবে না , তারা দয়া করে পার্সোনালি নেবেন না , আর্টিকেল টা শুধু সাধনার নামে ব্যভিচার আর অভিচার দ্বারা মানুষের ক্ষতি আটকাতে সচেতনতা বাড়াতে লেখা হয়েছে । সাধনা মুক্তি মার্গ এর করুন । আদেশ আদেশ


