আদেশ আদেশ
অঘোর সাধকের কোনো বাহ্যিক সংকল্প এর প্রয়োজন নাই , অঘোর এর সংকল্প হবে মানসিক
এর আগেও বহু আর্টিকেল এ আপনাদের বলেছি সাধনার বিভিন্ন বিষয়ে , এবং এও বলেছি যে অঘোর সাধন মার্গ এর নিয়ম অন্য মার্গের থেকে আলাদা হবেই , হতে বাধ্য এবং এই সব নিয়ম অনেক ক্ষেত্রে সামান্য হলেও বই তে লিপিবদ্ধ থাকে না ।
গত কদিন আগে ইউটিউব তে এক so called অঘোর কে দেখলাম তিনি তর্জন গর্জন সহকারে হতে দ্রব্য সামগ্রী নিয়ে, উচ্চস্বরে ক্রিয়া এর জন্য সংকল্প বাক্য পাঠ করছেন , আরো দেখে অবাক হলাম যে উনি পুরো ক্রিয়া টাই সাধারণ পূজার নিয়ম এ বা বলা যায় ব্রামন রা যখন না করলেই নয় ক্রিয়া বিধি করে সে সব করছে , দেখে অবাক হলাম যে এটা কি ধরনের অঘোর ক্রিয়া । আর তাছাড়া অঘোর ক্রিয়া তো উনি দেখতে পারবে না ইউটিউব e সেটা আমিও বুঝি , সেটা উচিত ও নয় , কিন্তু সামান্য পূজার পুরোহিত দর্পন এর নিয়ম কে অঘোর বিধি বলে চালানো হলো এটা দেখে আমার ভালো লাগে নাই তাই এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনাদের কিছু জানতে চাই ।
আজকে আমি basic থেকেই বলব ভেবেছি পরে ধাপে ধাপে বাকিটা
দেখুন অঘোর যদি শুধু কালো ধারণ করা অঘরী না হয় প্রকৃত ক্রিয়া ইত্যাদি জ্ঞান রাখে তবে তাকে নিজের ক্রিয়া বা পূজার জন্য হাতে সামগ্রী নিয়ে সংকল্প করে পূজা করার দরকার নেই , বিশেষত যদি নাথ সম্প্রদায় এর হয় তো । কিনারামি অনুগামী দের ক্ষেত্রে কিছু ব্যাতিক্রম থাকলেও মূল বিষয় same।
শুনে অবাক লাগছে তাই তো , যে এতদিন এত পুস্তক পড়েছেন এত তন্ত্রের বই ঘেটেছেন, এরকম শোনেন নাই , যে সংকল্প ছাড়া কোনো পূজা করা হয় বলে , তাই তো ??
এ বিষয়ে যখন গুরুজী কে প্রথম বার জিজ্ঞাস করেছিলাম তখন বলেছিলেন - " অঘোর কেনো সংকল্প করে না সেটা জানতে হলে আগে , এই যে তোমার "অঘোর শক্তিপাত কুল সাম্ভবি দীক্ষা" দেওয়া হলো এর মাহাত্ম্য কি ? আরো বুঝতে হবে কেনো দীক্ষা দান কলে তোমাদের পৈতা খুলিয়ে দেওয়া হয় ? সকলকে দিয়ে নিজের শ্রাদ্ধ নিজেকেই করানো হলো কেনো ? , এবং শেষে জানতে হবে অঘোর আচার এবং এতদিনে পৈতে ধারণ করে করা অন্যান্য আচার ( ক্রম দীক্ষা etc) এর পার্থক্য কি ??
কিন্তু শুরুতেই এসব বলে আপনাদের কনফিউজ না করে মূল। বিষয়ে আসি কেনো অঘোর কে সংকল্প করতে হয় না
এটা বোঝার জন্য আসুন আগে সাধারণ সনাতনী পূজায় বা তান্ত্রিক পূজায় সঙ্কল্প বিষয় টা কেমন হয়
সংক্ষেপে পদ্ধতিটি বর্ণনা করছি:
সঙ্কল্প-
তাম্রপাত্রে ( কুশীতে ) মূল ও অগ্রভাগের সহিত তিনটি কুশ, তিল, হরিতকী, নিয়ে গন্ধ, পুষ্প, আতপ চাল ও জল সামনে নিয়ে রাখতে হবে বীরাসনে (দক্ষিণ জানু পেতে ) পূর্বমুখী ( বা উত্তরমুখী ) বসবে। বাম করতলে কুশী স্থাপন করে দক্ষিণ করতল দ্বারা আচ্ছাদনপূর্বক পাঠ করবেঃ বিষ্ণুরোম্ তৎসদদ্য … মাসি … রাশিস্থে ভাস্করে … পক্ষে … তিথৌ অমুকগোত্রঃ শ্রীঅমুকদেবশর্মা ( পরার্থে- অমুকগোত্রস্য অমুকদেবশর্মণঃ ) [অমুকগোত্রঃ শ্রীঅমুকঃ (যজমানের গোত্র ও নাম)] অমুকদেবতা প্রীতিকামনায়া / অমুক কার্য্য siddharthang গণপত্যাদি নানাদেবতাপূজাপূর্বক- অমুক পূজাকর্মহং করিষ্যে ( পরার্থে- করিষ্যামি )।
আসলে সংকল্প হল প্রারম্ভিক ঘোষণা বা সপথ বলা যেতে পারে বা আরো ভালো ভাষায় বললে এটি আপনার সাথে ঈশ্বরের একটি কন্ট্রাক্ট বা প্রতিশ্রুতি এর মতন , যে আপনি অমুক পদবী ওয়ালা অমুক ব্যাক্তি যার অমুক গোত্র, তিনি অমুক শুভ তিথি অমুক নক্ষত্রে সূর্য অমুক রশিতে থাকাকালীন সময়ে সংকলোপ তে আবদ্ধ হলেন যে অমুক কার্য্য সিদ্ধি হেতু বা অমুক দেবী বা দেবতা পুজন করছেন ( মন্ত্র জপের ক্ষেত্রে অমুক সংখ্যক মন্ত্র জপ করছেন)। মনের ড্রিরতা সহ কর্তব্য সহকারে রোজ জপ পূজা হেতু এটি করা পূজার পূর্বে বাঞ্ছনীয় । এটি একটি সামান্য সাক্ষী মন্ত্র হিসাবেও বলতে পারেন।
এখন ব্যাপার হলো অঘোর বাহ্যিক সংকল্প করে না এর প্রধান কারণ হলো এই যে ---
1.অঘোর হল সেই প্রাণী যার কোনো নাম নাই,যার কোনো পদবী নাই, যার কোনো cast নাই , যায় কোনো ধর্ম নাই , অঘোর মানে যে সব রকম সংসারের ঘোরের বাইরে (যদিও আজকাল অনেক অঘোর পকেট থেকে দামী মোবাইল বার করে , (এই অধম ও ওটাই করে , যেহেতু সংসারে আছে) তবে অঘোর সংসারে থাকেলও নিয়ম সেই same হবে পূজা ও ক্রিয়া এর ।
তাই যার নাম পদবী নাই সে অমুকদেবশর্মণঃ অর্থাৎ অমুক চ্যাটার্জি বা অমুক ব্যানার্জি তো নয় অঘোর এর একটাই পরিচয় সে নাথ বা সে অঘোর । এবং অঘোর এর শান্ডিল্য বা ভরদ্বাজ এসব আলাদা আলাদা কোনো গোত্র এর অন্তর্গত নয় । তাহলে গোত্র এর গল্পঃ এখানেই শেষ । তাই উক্ত দ্রব্য সামগ্রী দ্বারা অঘোর এর বাহ্যিক সংকল্প এর প্রয়োজনীয়টা নাই।
2. বেশির ভাগ অঘরী হয় সমসান বাসি বা নিবৃতি মার্গের সাধক তারা আমাদের মতন ইউটিউব ফেসবুক এ ঘোরে না তাদের অনেকেই সংসার ত দূরের কথা সংসারী ব্যাক্তি দের তৈরি বা ব্যবহার্য্য জিনিস use করে না ,
গুরুজী বলতেন -
" যো ভি সাধক , সংসারী ইন্দন সাধান কো ইস্তেমাল মে না লাগবে না হি উনকা আস মন মে আবে সো সাচ্ছা নাথ যোগী কেহলাবে "
তাই যারা এক জায়গায় স্থায়ী হয় না, সংসারী জিনিস পায় না তারা শুধু সংকল্প কেন এমন কোনো ক্রিয়া e করে না যায় জন্যে এক গাদা সামগ্রী প্রয়োজন , কারণ তারা দশকরমা ভান্ডার খুঁজবে কোথায়?
3. যে সব অঘরের "অঘোর শক্তিপাত কুল সাম্ভবি দীক্ষা" (আগামী আর্টিকেল এ এই বিষয়ে লিখবো কারণ এই বিষয় কোনো বই আছে বলে আমার জানা নেই )
হয়ে যায় তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকে না নিজের শ্রাদ্ধ নিজেই করে নিতে হয় আগেই , তাই যার অস্তিত্ব নাই সে আবার অমুক দেবশর্মন কেনো হবে । আর তাই সে প্রাকৃতিক ভাবেই সব উজাড় করে পূজার জন্য সর্বদা সংকল্পবদ্ধ আলাদা করে বার বার সংকল্প করতে লাগে না । অর্থাৎ প্রকৃত অঘোর দীক্ষা হওয়া মানেই আপনি কন্ট্রাক্ট করে নিলেন পূজা করাই আপনার একমাত্র জীবনের উদ্দেশ্য বাকি কাজ পরে , আগে পূজা পাঠ । এই পূজা এর জন্য কোনো ফর্মালিটি দরকার নাই , তাই আলাদা বাহ্যিক সংকল্প না করলেও চলে ।
অঘরের সংকল্প কেমন হবে ?
অঘোর এর আসলে নিজের ক্রিয়া করার আগে কোনো সংকল্প প্রয়োজন নেই , মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধন শুরু করলেই হয়ে গেলো , ওটাই সংকল্প , মানসিক সংকল্প ।
যদি অঘোর অন্য কোনো ব্যক্তি এর জন্য ক্রিয়া করে তবেই কিছু ক্ষেত্রে সংকল্প করতে লাগলেও সেটা mandatory নয় । বিশেষত শাবর মন্ত্র গুলি দ্বারা যার উদ্দেশে করা হচ্ছে ক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে তার নাম অমুক হিসাবে মন্ত্রে থাকে সেক্ষেত্রে সংকল্প না করলেও অমুক স্থলে যার নাম বলে মন্ত্র ক্রিয়া করা হবে তার ফল সেই ব্যক্তি এমনিতেই পাবে । অন্যান্য ক্রিয়া তে মানসিক সংকল্প করলেও চলবে , প্রত্যেক অঘোর কেই প্রভু দত্তাত্রেয় ও মা শাবরি দেবী আশীর্বাদ আছে (এই ধার্মিক গল্পঃ দুটি অন্য একদিন শোনাবো ) অঘোর মানস চিন্তন করলে সেটাই মানস সংকল্প তে পরিবর্তন হয়ে যাবে , এটি করলেও একই কাজ হবে , হাতে সামগ্রী kosha কুষি নিয়ে সংকল্প বাক্য পাঠ করার প্রয়োজন নাই ।
শেষে আরো একটা বিষয় বলে রাখি শুধু সংকল্প নয় অঘোর আচার এর অধিকাংশ মন্ত্র বিধান অন্য সব আচার থেকে ভিন্ন , বিশেষত নাথ সম্প্রদায় হলে । আমাদের আসন মন্ত্র থেকে শুরু করে জল শুদ্ধি, আবাহন মন্ত্র থেকে শুরু করে শেষে ক্ষমা প্রার্থনা মন্ত্র সবই আলাদা হয় । তাই যদি কোনো ব্যক্তি ,কালো বস্ত্রই কেনো না পরে থাকুক যদি আপনি দেখেন যে সে ব্যক্তি , সেই সমস্ত মন্ত্র পড়ছে যেগুলি আপনারা পুরোহিত দর্পণ বা নিত্য পূজা এর বই গুলিতে দেখে থাকেন তাহলে বুঝবেন ওই পুজাটি অঘোর আচারে হচ্ছে না সামান্য পূজার নিয়মে হচ্ছে for sure ।


