অঘোর রা কেনো খেত্রপাল পূজা করে জেনে নিন by Jyotishraj Suvrajit

Jyotishraj Suvrajit Singha
0



ক্ষেত্রপাল দেবতা কে ? আমরা অঘোর মতে এনাকে কেনো পূজা দিয়ে থাকি ?


ক্ষেত্রপাল হল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দেবতা, যার অধীনে সেই অঞ্চলের শক্তি রা বাস করে। ভারতের অধিকাংশ গ্রামে ভৈরবনাথ, বাবন বীর, সতীমাই, বুড়ি মায়, সিতলামাই এবং ক্ষেত্রপাল, মাসানি মাতা, মেলেডি মাতা এর ইত্যাদির মন্দির রয়েছে।কিন্তু এদের আরাধনা কেনো বা কি কারণে হয় এবং এর দ্বারা কি কি কাজ হয় অনেকেই ত জানে না । এগুলি সমস্তই গ্রাম দেবতা এবং প্রত্যেকের আলাদা আলাদা কাজ বা ক্রিয়া আছে জার দ্বারা বিভিন্ন ফল লাভ করা যায় ।

 

ক্ষেত্রপালও এর মূর্তি অনেক স্থানেই ভগবান ভৈরবনাথের মতো দেখতে, কারণ এরা আসলে ভৈরব এর ই স্বরুপ বা গণ এবং ভৈরব সাধক দের উপর এরা এমনি তেই সন্তুষ্ট থাকে l এবং সেই কারণেই অনেকেই ক্ষেত্রপালকে কালভৈরবের রূপ বলে মনে করেন। জনজীবনে ভগবান ক্ষেত্রপাল বাবা, খেতাল, খান্ডোভা, ভৈরু মহারাজ, ভৈরু বাবা ইত্যাদি নামে পরিচিত কিন্তু আসলে এরা ভৈরু বাবা এর স্বরুপ বা চেলা । এরা ভারতের বহু সমাজের পারিবারিক দেবতা বা গ্রাম দেবতা হিসাবেও পূজিত হন ।


তন্ত্রে এদের একটি ভিন্ন স্থান আছে , যেমন ধরুন, সাধারন ওঝা বদ্দী রা যখন ভুত প্রেত বা জ্বীন ছাড়াতে বা কোনো উগ্র ক্রিয়া করতে জন তখন দেহ বন্ধন , ঘর বন্ধন , আসন বন্ধন ইত্যাদি করেন , আর একটু বড় ধরেনের সাধকেরা পথ বন্ধন , বাদী গুনিনের মন্ত্র বন্ধন (যাতে অন্য কেউ কাঠি না করে ) , দিক বন্ধন ইত্যাদি ও করেন , আর যারা আরো উচ্চ মাপের তান্ত্রিক বা অঘোর তারা সোজাসুজি ক্ষেত্র পাল ও দিকপালের ক্রিয়া দ্বারা পুরো ক্ষেত্র বা area টিকে বন্ধন করে রাখেন ।




এতে অনেক গুলি benefit পাওয়া যায় যেমন -


1. সেই অঞ্চলের কোনো শক্তি যেমন ভুত প্রেত , জিন, মশান , মাদার কালী , বা কেউ ই ক্ষতি করতে পারে না কারণ এরা সবাই ক্ষেত্র পালের অধীনস্থ আর ক্ষেত্রপাল ভৈরব এর অধীনস্থ।

 2. ক্ষেত্রপাল প্রসন্ন থাকলে পথে ঘটে বিপদ হয় না ।

 3. কেউ তন্ত্র দ্বারা বা অন্য সড়যন্ত্র দ্বারা ক্ষতি করতে চাইলে ক্ষেত্রপাল তার ক্রিয়া বিফল করে ।

 4. মন্ত্র সিদ্ধ হয়ে গেলে ক্ষেত্রপাল দেবতা স্বপ্নে দেখা দেয় , ও আগত বিপদ বা কেউ আপনার বাড়িতে আসে পাশে আপনি ক্ষতি করলে তার সংকেত সপ্ন তে দিয়ে দেই ।

 5. ক্ষেত্রপাল দেবতা এর ক্রিয়া দ্বারা রোগ নিরাময় ও করা হয় (আপনারা অনেক জ্যোতিষ ও তান্ত্রিক দের টিপস দিতে শুনেছেন যে, যে কোনো উতারা বা দোষ কাটান করে বা কোনো ভোগ etc তিন রাস্তার মোড়ে বা নির্জন স্থানে রেখে দিতে এগুলি খেত্রপাল দেবতা কেউ উৎসর্গ কৃত হয়) ,( শুধু চৌরাস্তা বা শ্মশান এর টা বাদে ওটা সরাসরি মাশানি মাতা গ্রহণ করেন ) ।

 6. কোনো সালিশি সভা বা জমায়েত বা পঞ্চায়েত এ যদি সবাই বিরুদ্ধে থাকে আর সেই ব্যক্তির শুধুমাত্র ক্ষেত্রপাল তার প্রতি প্রসন্ন থাকে তাকে হারানো সহজ হবে না ।

 7. দূর থেকে করে দেওয়া চালান ক্রিয়া , আপনার বাড়ি বা লোকেশন এ প্রবেশ করে ক্ষতি করতে পারে না , এক্ষেত্রে আটকা পরে যায় , সেই সাধক যিনি করেছেন তার কাছেই সেই শক্তি ফিরে চলে যায় ।


যেরূপ , সাধারণ পূজার আগে আপনারা অনেকই জানেন পঞ্চ দেবতার পূজা অনুষ্ঠিত হয় , তেমনি যারা অঘোর মতে সাধনা শেখেন তাদের বলা হয় যে , ইষ্ট দেবতা , কুল দেবতা , পিত্র রা এবং এর সঙ্গে যে স্থানে যখন বাস করবে সেই স্থানের গ্রাম দেবতা বা ক্ষেত্রপাল দেবতা বা আঞ্চলিক দেবতা কেও প্রসন্ন করে রাখবে যাতে কোনো হটাৎ বিপদ না হয় এবং সব ক্রিয়া সফল হয় ।


এছাড়া আরো অনেক benefit আছে ও বিভিন্ন ক্রিয়া আছে যা বিস্তারে শুধু এই টপিক এই লিখতে গেলে প্রায় একটা ছোট ম্যাগাজিন বা পুস্তক হয়ে যাবে । 


পদ্ধতি ভেদে খেত্রপাল পূজা 3 রকমের হয় 


 1. সত্বিক পদ্ধতিতে

 2. রাজসিক পদ্ধতিতে

 3. তামসিক পদ্ধতিতে


সম্পূর্ন ক্রিয়া প্রক্রিয়া নিয়ে লেখা সম্ভব নয়  তবে চেষ্টা করবো আগামী দীনে লেখার আর সকালের সে সব ক্রিয়া করা উচিত ও নয় ,


আমার আগামী আর্টিকেল এ আমি এই খেত্রপাল দেবতা কে প্রসন্ন করার একটি গুরুমুখি ক্রিয়া বলব যা খুবই সহজ এবং সকল সংসারী ব্যাক্তি করতে পারবে , দীক্ষিত হওয়ার দরকার পরবে না ওই ক্রিয়া করার জন্য দীক্ষা না থাকলেও চলবে , আমি এর আগে এই সামান্য ক্রিয়া টি অনেক ক্লায়েন্ট দের দিয়েছি তারা লাভ পেয়েছে । এই ক্রিয়া দ্বারা শরীরের o ঘর এর সাধারন দোষ দুষি, বাধা , কু ক্রিয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায় । 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)