ইনকিবুস - বা স্লিপ প্যারালাইসিস
অনেক সময় এমন হয় যে ঘুমোতে ঘুমাতে আমরা খুব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে যায় আর ঠিক তখনই মনে হয় আমাদের শরীর টা খুব ভারী হয়ে গেছে হাত পা নোরবার ক্ষমতা ও থাকে না। জোরে চিৎকার করলেও কেউ শুনতে পায়না তখন আমরা অনুভব করতে পারি যে আমাদের শরীরের ওপরে কেউ আছে। সেই সময় ডাকলেও কোনো ফল হয় না কেউ শুনতে পায় না , ঠিক কিছু ক্ষণ পর শরীর হালকা হয়ে যায় । আর আমরা মনে করি স্বপ্ন দেখছিলাম কিন্তু এমন টা নয়। এটা এক অধ বার হলে ঠিক আছে কিন্তু প্রায় হলে স্লিপ প্যারালাইসিস এর লক্ষণ ।
স্লিপ প্যারালাইসিস সমন্ধে তন্ত্র কি বলছে আসুন দেখে নি
মুসলিম তন্ত্রে, এটার খুব ভালো ব্যাখ্যা করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে যে এটা একটা ঘুমের জ্বিন দ্বারা পীড়িত হওয়ার ফলে হয় , এই জ্বীন নারী পুরুষ দুই আছে । সাধারণত যারা এর দ্বারা পিরিত হয় তারাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয় , খেয়াল করে দেখবেন যখন আমাদের সাথে এটা হয় তখন শরীর খুব ক্লান্ত হয়ে যায় ঘুম থেকে উঠে কিছু ভালো লাগে না খুব অস্বস্তি ভোগ হয় আসলে তখন আপনার শরীরে ওই জ্বিন দৃষ্টি করে কখনো আপনার রক্ত পান করে , আবার কখনো দুঃসপ্ন দেখায় বা কখনো আপনি স্বপ্ন দেখেন যে আপনার পছন্দের মানুষের সাথে আপনি সহবাস করছেন। এই শক্তিগুলি মেয়ে ওহ ছেলে উভয়ের এর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। তাই শরীরে ভার দেয় তখন কথা বলা যায় না হাত পা উহ নাড়ানো যায় না ।
হিন্দু অঘোর তন্ত্র অনুসারে , এটার মূল কারণ চোষক নামক অপশক্তি কে বলা হয়েছে , এই শক্তিগুলি সাধারণত রক্ত ও শক্তি কে অন্যের দেহের থেকে আহরণ করে ও নিজেকে শক্তিশালী করে , এই চোষক কে আবার আবাহন করে চালান ও দেয়া যায় অন্যের শক্তি কে হরণ করে তাকে ক্ষীণ ও দুর্বল করতে , যারা তামসিক সাধনা করে তারা এটা করে থাকে । আবার চোষক নিজের থেকেও অনকের উপর ভর করে রাত বিরেতে । মূলত এরাও একই ভাবে দুঃসপ্ন দেখায় ও স্বপনে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায় ।
যাদের উপর স্লিপ প্যারালাইসিস এর প্রভাব আছে , তাদের ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় যে -
- মূলত আমাবস্যা এর রাতে হয়ে থাকে ও অন্য রাতেও হয় ।
- রাত্রি এর তৃতীয় প্রহরে এসে এই ধরনের প্রভাব বেশি হয় ।
- মূলত শরীর প্রথমে ঠান্ডা বোধ হয় , পরে ভারী ভারী লাগে ।
- ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রথমে শিরশিরানি বোধ হতেও দেখা যায়
- ছেলেদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিলেই গলা বসে যায় এটা প্রথম সিম্বল এরপর শুরু ভুলে যাওয়ার রোগ ।
- মেয়েদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিলেই চুল ওঠা শুরু হয় পরে দেহে দাগ পড়ে মূলত তল পেটে ।
কাদের বেশি প্রভাবিত করে এই শক্তি গুলি
1. যে সব মহিলারা রাতে চুল খোলা রেখে শোয় তাদের
2. যে সব মহিলারা স্নান বিনা কাপড় পরে করেন ।
3. যে সব ছেলেরা খালি গায়ে ঘুমান তাদের ক্ষেত্রে হয়
4. যে সব ছেলেরা রাতে বুকে ভর দিয়ে উল্টে শুয়ে থাকে
5. যে সব ছেলেরা রাস্তায় যেখানে সেখানে মূত্র ত্যাগ করে
6. যে সব মহিলারা অতিরিক্ত আতর বা পারফিউম ইউজ করেন
7. এছাড়াও যদি চালান দিয়ে পাঠানো হয় তখন বেশি প্রভাব পরে ।
এর থেকে বাঁচার উপায়
আপনি যদি সাধারণ মানুষ হন কোনো তান্ত্রিক বা সাধক নন এবং হিন্দু হন তবে আত্মরক্ষা মন্ত্র দ্বারা আত্মরক্ষা ও বিছানা বন্ধ মন্ত্রের দ্বারা বিছানা বন্ধন করে শুলে রক্ষা পাবেন । আপনি যদি মুসলিম হন তবে আয়তুল কুরসী দ্বারা শরীর কে রক্ষা ও চেহেলকাফ দ্বারা ঘর বেধে শুলে রক্ষা পাবেন । এছাড়া কামাখ্যা তন্ত্র তে sapnswri মন্ত্র আছে এবং গৃহেস্বরি মন্ত্র আছে সেটা করে ঘুমালেও এর থেকে বাঁচা যায় ।
একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে , গ্রহগত কারণে এটা হলে আগে সেই ব্যক্তির কুণ্ডলী অনুযায়ী গ্রহ গুলি দেখে প্রতিকার করে তারপর এটি করতে হবে , কারণ যদি horoscope এ থাকে প্যারালাইসিস হওয়া তবে প্রতিকার আগে সেই অনুযায়ী দিয়ে তারপর উক্ত মন্ত্র দ্বারা কাজ করলে বেশি ভালো ফল পাওয়া যাবে ।


