আদেশ আদেশ
এই সম্পূর্ন চরাচর জগৎ ও মানব দেহ ঈশ্বরের এক এমন অনবদ্য সৃষ্টি যে , ঠিক ভাবে কেউ যদি নিজের ক্ষমতা সমন্ধে অবগত হয়ে যান তবে তিনি এই সৃষ্টির অনেক রহস্য সমন্ধে অবগত হয়ে যাবেন । ওই জন্যেই শাস্ত্রে বলা হয় যে - আত্মতত্ত্ব সমন্ধে আগে অবগত হতে ।
আপনাদের অবগত করার জন্য বলি , উচ্চ কোটির সাধক রা উচ্চস্তর অর্জন করেছেন বিভিন্ন ভয়ানক উগ্র ক্রিয়ার দ্বারা নয় , বরং জীবনের সহজ সরল বিষয় গুলিকে সামান্য পরিবর্তন করে নিজে এক নির্দিষ্ট লক্ষে সাধনা করতে করতে নিজেকে প্রকৃতি রুপী মা আদী শক্তি এর সঙ্গে একাত্ম করে দিয়ে , কিন্তু আমরা সাধারণত আজকের দিনে এই সাধনা ওই সাধনা সেই সাধনা করতে গিয়ে আসল প্রকৃত যোগ থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি ।
তাই আজ আমি কিছু সামান্য নিয়ম বলব যা আপনি মানতে শুরু করলে জীবনে অনেক পরিবর্তন দেখতে পাবেন এগুলো কোনো মন্ত্র তন্ত্র যন্ত্র নয় , এগুলি yog সাধনার বুনিয়াদি কিছু সহজ সরল নিয়ম কিন্তু এগুলির জীবনে এত ভালো প্রভাব আছে যা বলে বোঝানো যাবে না ।
চলুন দেখা যাক বিস্তারে কি সেই নিয়ম গুলি -
1.সুষুম্না ব্যাপ্তি ক্রিয়া - দিনে অন্তত 10 বা 15 মিনিট বা তার বেশি হলেও ক্ষতি নেই , মেরুদন্ড সিধা রেখে বসতে অভ্যাস করুন প্রথম প্রথম এক সঙ্গে 10 মিনিট না পারলে ধাপে ধাপে করুন । যদিও সম্পূর্ন সুষুম্না ব্যাপ্তি ক্রিয়া এটি নয় just তার প্রাথমিক অংশ মাত্র তবে শুরুতে এটাই যথেষ্ট , এটা না পারলে বাকিটা এমনি তেই এগোনো যাবে না ।
আমরা দিনের বেশির ভাগ সময় বা প্রায় সব সময় মেরুদন্ড কে দুমড়ে বা ঝুঁকে বা হেলান দিয়ে বসে কাটাই , আপনি যদি জানতেন যে এতে আপনি শুধু রোগ ব্যাধি কে নিমন্ত্রণ দিচ্ছেন ত নয় আপনার আয়ু ও কম হচ্ছে এই সামান্য কারণে , এবং শুধু মেরুদন্ড বা সুষুম্না কে দুমড়ে বসে পূজা করার ফলে আপনি কি কি ফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেটাও যদি জানতেন তাহলে কবে এটা বদলাতে চেষ্টা করতেন তাই না ??
2. যোগীক শ্বাস ক্রিয়া - পূর্ন শ্বাস নেওয়ার বা নাভির উপরণশ থেকে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করুন , একে যগিক শ্বাস বলে (Yogic Breath) বলে, যত নাগা সাধু দের দেখেন তাদের অধিকাংশ কিন্তু যোগ তন্ত্র সাধক , ক্রিয়া কর্ম বালা তন্ত্র অনেকেই করে না , তবুও দিব্যি সুস্থ সবল এবং বিভিন্ন সিদ্ধি অর্জন করছে, শুধু yog এর ক্ষমতা দ্বারা । দিনে অন্তত ১০ মিনিট এই ক্রিয়া অভ্যাস করুন , আগামী দিনে আমার cosmofeed এ চ্যানেল এ ভিডিও করে দেখাবো এই ক্রিয়া এছাড়া সুষুম্না ব্যাপ্তি ক্রিয়া ও সম ক্রিয়া এসব ও ওখানেই দেখাবো , আমার প্রোফাইল এ নজর রাখলে পেয়ে যাবেন লিংক।
3. মৌন ব্রত ক্রিয়া - দিনে যথাসম্ভব মৌন থাকুন , বাজে বোকা এর অভ্যাস কমিয়ে , যতটা কথা বলবেন চেষ্টা করুন ঈশ্বরের কোথায় বলতে । বহু উচ্চ কোটির monk, সাধু সন্ত রা এই নিয়ম মেনে চলেন আপনি হয়তো বললেও মানবেন না তবে এটাই সত্যি ।
এর ক্ষমতা কত সেটা আপনারা জানেন না , আমি জেনেছিলাম যখন বজ্রযান তন্ত্র শিখতে গিয়েছিলাম । 9 বার ফিরত পাঠিয়েছিল , কারণ টা 9ম বারে গিয়ে বুঝেছিলাম যে , মনাস্ট্রি তে আমি বাদে আর কেউই, খুব প্রয়োজন ছাড়া কথাই বলে না বললেও শুধু ঈশ্বর সংক্রান্ত কথাই বলে । যদিও এটা আমাদের ধর্মের নিয়ম বটে তবে আমরা নিজেরাই এত বকি যে এটা মানতে পারি না তবে buddhist র এটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সেটা খুবই ভালো বুঝেছি ।
পরে আরো গভীরে গিয়ে জেনেছিলাম , মৌনতা সাধনা দ্বারা বাকসিদ্ধি লাভ হয় কোনো মন্ত্র ছাড়াই হয়। একদম সত্যি বলছি, যদিও জানি আপনারা মানবেন না , ভাববেন বিনা মন্ত্রে সম্ভব নয় । কিন্তু এটা সম্ভব পরে একদিন তার নিয়ম ও বলব (cosmofeed এ বলব fb তে নয়) যা মহান লামা শিখিয়েছিলেন ।
মহান লামা মৌন প্রসঙ্গে বলেছিলেন - " প্রত্যেক কাজ করতেই শক্তি লাগে এটাই সৃষ্টির নিয়ম , কথা বলতেও সেই শক্তি লাগে , সারাদিন যা শক্তি আমরা বক বক করে নষ্ট করে দি সেই শক্তি আমরা সঞ্চয় করে রাখলে , তাকে অধ্যান্ত্মিক শক্তি তে রূপান্তর করলে তিন গুণ তীব্রতার সঙ্গে বিকাসলাভ করব ,তাই বেকার কথা বলে আত্মিক শক্তি নষ্ট না করতে "
যেহেতু আমার profession এ এমন যে লোকের পিছনে বকতেই হয় তাই দিনের শুরু তেই 20 মিনিট মুখ ও মাথা চুপ রাখি । আপনারা যে যাই কাজে থাকুন না কেন, চেষ্টা করলে atleast কিছু সময় পারবেন , সেটাই যথেষ্ট ।
এই রকম আরো গোটা 12 টা বিষয় আছে যা আমি নিজে করি রোজ, একদিনে এত বিষয় ভেঙে বিস্তারে লেখা সম্ভব নয় তাই ধাপে ধাপে লিখবো , এগুলি জীবনের অঙ্গ বানালে আপনার থেকেই 60% সমস্যা গায়েব হয়ে যায় , কোনো উগ্র মন্ত্র ইত্যাদি লাগে না , জটিল ক্রিয়া কর্ম হোম করতে লাগে না ।
এবার আপনাদের মনে হতে পারে যে এতগুলো নিয়ম আমাদের সকলের রোজ মানা সম্ভব নয় ১৫ টা নিয়ম তো কম নয় , কিন্তু এই নিয়ম গুলি এতই সহজ যে , যে কেউ করতে পারবে , কোনো অধিক কষ্ট বা খরচ হয় না , কয়েক মাস মনে করে করাটাই চাপ তার জন্য আমি অ্যালার্ম দিয়ে রাখতাম , কেয়ক মাস করার পর এগুলি জীবনের অঙ্গ হয়ে যায়। তখন আলাদা করে মনে করতে হয় না ।
আর এই নিয়ম গুলির আরেকটি মাহাত্ম্য হল এই যে মানলে লাভ অনেক কিন্তু করতে কোনো গুরু , মন্ত্র দীক্ষা এসব এর বাধ্যতামূলক প্রয়োজনীয়তো নেই , তাই আমার গুরু নাই বা দীক্ষা নাই বলে করতে পারবো না এই অজুহাত ও দেওয়া সম্ভব নয় , এই গুলির ক্ষেত্রে ।


