তন্ত্র শেখার জন্য যে সাধারণ যোগ্যতা বা গুন গুলি প্রয়োজন by Jyotishraj Suvrajit

Jyotishraj Suvrajit Singha
0

 তন্ত্র শেখার জন্য যে সাধারণ যোগ্যতা বা গুন গুলি প্রয়োজন সেগুলি নিচে লিপিবদ্ধ করা হলো 

 1.  সংযম - তন্ত্র শিখতে গেলে সবথেকে পূর্বে আপনাকে এটিকেই আয়ত্ত করতে হবে , কারণ সংযম ছাড়া কোনো সাধনা বা ক্রিয়া কর্ম কে আপনি সঠিক ভাবে করতে সক্ষম হবেন না , এক্ষেত্রে সংযম বলতে আমি শুধু শারীরিক বাসনা থেকে নিয়ন্ত্রণ বোঝায় নি বিষয় বাসনা থেকে নিয়ন্ত্রণ কেও বুঝিয়েছি । 

 2.  বিশ্বাস - বিশ্বাস হলো তন্ত্র শেখার জন্য দ্বিতীয় অন্যতম এটি , বিশ্বাস থাকতে হবে সবার আগে নিজের উপর, তারপর নিজের কর্মের উপর এবং বিশ্বাস থাকতে হবে গুরু এর উপর ( যখন গুরু পেয়ে গেছেন ) , বিশ্বাস অবশ্যয় সর্বদা সৃষ্টিকর্তা এর উপর থাকতে হবে ।

 3. একনিষ্ঠতা  ও একাগ্রতা - এই গ্রুপে প্রথম যে আর্টিকেল টা লিখেছিলাম মনে পড়ে, তার বিষয় ছিল একসাথে বহু বহু দেবী ও বহু দেবতার উপাসনা সমস্যার কারণ হতে পারে , এর ব্যাখ্যা ও করেছিলাম , একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতা সহযোগে এক শক্তি বা ইষ্ট তে বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেত হবে , চার দিন কালী মন্ত্র , 3 দিন বিষ্ণু মন্ত্র , আবার পরে এই স্তোত্র ওই স্তোত্র সব একসঙ্গে করতে গেলেই ধপাস ।

 4. ডিসিপ্লিন - গুরু জি বলতেন জার জীবনে নিজেরই কোনো নিয়ম বা এথিক্স নাই আজ এরকম ত কাল ওরকম ভাবে জোড়া তালি দিয়ে চলে চলে অভ্যাস এবং কোনো নিয়মানুবর্তিতা নেই , তাকে তন্ত্রে আসা উচিত না সে তন্ত্রের বিধি নিয়ম বেশিদিন মেনে চলতে পারবে না । 

5. ধৈর্য - তন্ত্রে ধৈর্যের ভূমিকা অপরিসীম যার ধৈর্য নাই সে সামান্য ওঝা হতে পারবে না , তান্ত্রিক ও সাধক হওয়া তো দূরের কথা , এমন অনেক সাধনা আছে যেটা শুধু ধৈর্য ও সংযম এর ভিত্তিতে টিকে আছে তাই এটা প্রয়োজন , বিশেষকরে যারা shatkarma শিখতে বেশি আগ্রহী তাদের তো আরো ধৈর্য থাকতে লাগবে কারণ , আপনি কাম্য কর্মের জন্য পুজা অনুষ্ঠান করবেন , তাতে ফল প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তি আপনার উপর নয় , প্রভুর উপর নির্ভর করছে তাই , এতে অধৈর্য ব্যক্তির  কোনো সফলতা হয় না । 

 6. অবিচল মনোভাব - ক্রিয়া কর্ম শিখে বা ঝার ফুঁক শিখে ওঝা হতে গেলে এটার প্রয়োজন নাই তবে প্রকৃত সাধনা করতে গেলে অবিচল মনোভাব লাগবেই , বিচলিত মন সাধনা করতে সক্ষম নয় , আমাদের অঘোর মার্গে বিচলিত মনের ব্যাক্তিদের আগমন দেওয়া হয় না কারণ , ভৈরব সাধনা , বিভিন্ন জাঞ্জিরa মন্ত্র এগুলি করতে গেলে মনের বিচলন থাকলে বিপদ হতে পারে ।

 7. অল্প samajikota - সমাজ বা সোসাইটি এর বেশি ধার ধরলে চলবে না , সাধক হন বা তান্ত্রিক হন বা ওঝা ই কেনো না হন সব ক্ষেত্রেই সমাজ শুধু সমালোচনা করতে ভালোবাসে তো আপনার কোনো না কোনো বিষয় সেটি করবেই , তাছাড়া বেশি সামাজিক হলে সারা সময় সমাজের বিভিন্ন বিষয় করতে চলে যাবে , নিত্য ক্রিয়া বলুন বা সাধন ভজন করুন বা প্রয়োগ জনিত ক্রিয়া কর্ম করুন তার টাইম আপনি পাবেন না । 

 8. সল্প সংকোচবোধ - তন্ত্র শিখতে গেলে সংকোচবোধ কে দূরে রাখতে হবে সংকোচবোধ যত বেশি হবে , আত্ম বিশ্বাস ততই কমবে এর ফলে , আপনি কোনো সাধনার দিকে এগোতে পারবেন না এমন কি সংকোচ বোধ বেশি হলে প্রকৃত গুরু সামনে থাকলেও আপনি তাকে গুরু হিসাবে মানতে সংকোচবোধ করবেন । 

 9. অহংকারহীনতা - অহঙ্কারী ব্যাক্তি যতই চেষ্টা করুক সৎ গুরু পায় না , যদি দৈবাৎ কোনো গুরু ধারণ করে তবে তার দেওয়া ক্রিয়া কর্ম করেও সে বেশি উন্নতি করতে পারে না । তাছাড়া অহংকার মা মহামায়া এর পছন্দ নয় , তিনি স্বয়ং সেই ব্যক্তির পূজা পাঠের ফল দানে বিরত থাকেন , শাস্ত্রে এর ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে । তাই তন্ত্র শিখতে হলে বা শিখবেন ভাবছেন তাহলে অহংকার ত্যাগ করুন ।

10. ক্ষতিকর মনোবৃত্তি ত্যাগ - এটা আমি আরেকটা এক্সট্রা point নিজে দেখেছি তাই বলতে বাধ্য হলাম , কারুর ক্ষতি করার বাসনা নিয়ে শিখতে চাইলে আপনি ভালো গুরু পাবেন না নাই শিখতে পারবেন ।

 এই কদিন আগেই আমার কাছে একজন বলল দাদা তন্ত্র শিখতে চাই , আমি বললাম কেনো শিখিতে চান , বলল ওই আমার পাশের বাড়ি একজন আছে ও তন্ত্র মন্ত্র জানে আমার ক্ষতি করছে , আমি ওর একই পরিস্থিতি করতে চাই । এখন ব্যক্তব্য হলো এই ধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে তন্ত্রে এলে শেখা হবে না প্রতারিত হতে হবে এটাই সত্যি । 

যাক ১০ টি সাধ্য ও সাধারণ পয়েন্ট বললাম এছাড়া শাস্ত্র বা তন্ত্র হিসাবে দেখতে গেলে এমন অনেক গুণাবলীর কথা বলা আছে সবকটা লিখা সম্ভব নয় ।




তন্ত্র শেখার আগে যে ভুল ধারণা গুলি ছাড়তে হবে ---

 ১.  তন্ত্রের দ্বারা সব সমসস্যার সমাধান করে ফেলবো নিমেষের মধ্যেই এই ধরনা ত্যাগ ।

 2.   তন্ত্র মানেই ঝার ফুঁক , তুক তাক , যাদু টোনা ইত্যাদি এই ভুল ধারণা ত্যাগ ।

 3. ভালো সাধক বা তান্ত্রিক হতে গেলে অনেক অনেক kriya শিখতে হবে এই ভুল ধারণা ত্যাগ ।

 4. উচ্চ কোটির সাধক হতে গেলে সব ভয়ানক ধরনের উগ্র ও তেলসমতি সাধনা করতে হবে এই ধারণা ত্যাগ । এটা কেনো বললাম তার কারণ ও বলি গ্রুপে কদিন আগে একজন কে বারণ করেছিলাম মনে আছে নিশ্চয় মাতঙ্গী সাধনা নিয়ে , তার আসলে প্রয়োজন ছিল সামান্য বিদ্যা ও সংগীত জ্ঞান লাভ তো সামান্য ভাবে সরস্বতী সাধনা করলেও তাতেও হতো কিন্তু এইসব ভিডিও ও নেট দেখে তার মনে হলো বেশি পয়ারফুল কিছু করি । তাই এই ভুল যাতে সকলে না করে তাই এই পয়েন্ট টা দিলাম । 

এছাড়া আরো অনেক ভুল ধারণা আছে আগের এক আর্টিকেল e লিখেছি তাই আর সব আবার লিখলাম না ।

তন্ত্র শিখতে যাওয়ায় আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন -

 1. আমি তন্ত্র কি কারণে শিখতে চাই ?

 2. আমার তন্ত্রের দ্বারা কোনো অর্থ ইনকাম ইচ্ছা আছে কিনা ?

 3. আমার মনে এই ইচ্ছার উদয় হলো কেনো ? 

4. আমি exactly কি তন্ত্র শিখতে চাই -

 সাধন ভজন নাকি ঝাড় ফুঁক নাকি shatkarma নাকি যোগ তন্ত্র 

 5.  আরো প্রশ্ন করুন যে এর জন্য আপনি কি কতটা effort দিতে পারবেন ( আজকাল সকলেই ফেসবুক বা নেটের মাধ্যমেই এই তন্ত্র সব শিখতে চায় বাড়ি বসে  যা বাস্তবে সম্ভব নয় , প্রাকটিকাল লাগবেই তাই এটা বললাম ) 

 6. এবং আপনি এটাও ভাবুন যদি আপনি অলরেডী বৈষ্ণব হন তাহলে তান্ত্রিক হবেন কেনো ( বহু পূর্বে বৈষ্ণব তন্ত্রের আর্টিকেল যখন লিখেছিলাম তখন বলেছিলাম বৈষ্ণব মতে অনেক রকমের সাধনার কথা , যারা গ্রুপে নতুন তারা গ্রুপে আমার আর্টিকেল স্ক্রল করে গত বছরের মধ্যে পাবেন )

যতক্ষণ না অন্তর থেকে এগুলির exact সঠিক উত্তর পাচ্ছেন ততক্ষণ শিখতে চাইলেই শেখা যাবে না । এটাই সত্যি ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)